মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

৪ জেলার যাত্রীদের জন্য সুখবর, এবার সরাসরি কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

ডেইলি স্টারে প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৫ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৪ জেলার যাত্রীদের জন্য সুখবর, এবার সরাসরি কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

মহানগর এক্সপ্রেসের রুট ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। গত ১৭ আগস্ট রেলভবনে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭২১ ও ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা ছাড়বে এবং ভোর ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

মহানগর এক্সপ্রেসের বিশেষত্ব হলো—ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বর্তমানে চলাচলরত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের তুলনায় এর যাত্রাপথে বেশি স্টপেজ রয়েছে। ট্রেনটি নরসিংদী, ভৈরব, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরায় যাত্রাবিরতি করে।

ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি এসব স্টেশন থেকেও যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন। বিশেষ করে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি রেল যোগাযোগ তৈরি হবে।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয় কক্সবাজার। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রবাল ও সৈকত ট্রেন চলাচল করছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস মূলত বিরতিহীন, শুধু চট্টগ্রাম জংশনে যাত্রাবিরতি করে।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ জানায়, এই রুটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।

এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী ও কক্সবাজারের একটি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি নিয়মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করি। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী দুটি ট্রেনেই নন-এসি কোচ রয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত হলে যাত্রীরা এসি কেবিন ও এসি কোচে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উপপ্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ঢাকা-কক্সবাজার রুটটি রেলওয়ের জন্য লাভজনক। বর্তমানে ট্রেনগুলোতে আসন পূর্ণ থাকে এবং এ রুটে আরও টিকিটের চাহিদা রয়েছে। মহানগরের রুট বর্ধিত হলে যাত্রীদের সুবিধার পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্বও বাড়বে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) শফিকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেস চালাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

‘রুট সম্প্রসারণের প্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজারে ট্রেনের ওয়াশ ও সার্ভিসিং সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে দৈনিক ওয়াশিংয়ের জন্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে। তবে সাপ্তাহিক ওয়াশ ও সার্ভিসিংয়ের জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি করতে হবে’, বলেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, কক্সবাজারে মহানগর এক্সপ্রেসের ওয়াশিংয়ের অবকাঠামো তৈরির জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দের বিষয়েও কাজ চলছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে একটি রেক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে। কক্সবাজার পর্যন্ত রুট বাড়াতে দুটি রেক প্রয়োজন হবে। এছাড়া দীর্ঘ রুটের সময়সূচি ঠিক রাখতে উচ্চগতির সক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন প্রয়োজন। রেলের বহরে এমন ইঞ্জিনের স্বল্পতা থাকায় সময়সূচি ঠিক রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলে উচ্চগতির সক্ষমতাসম্পন্ন ৩ হাজার সিরিজের ৩০টি ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি আনফিট থাকায় নিয়মিত বহরে রয়েছে ১১টি।

পরিবহন বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, ৩ হাজার সিরিজের কিছু ইঞ্জিন উচ্চগতিতে চলার সক্ষমতা রাখলেও অনেকগুলোর পর্যাপ্ত ট্র্যাকশন মোটর নেই। ফলে সেগুলো নির্ধারিত গতিতে চলতে পারে না। আর যেসব ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত মোটর রয়েছে, সেগুলো বিরতিহীন ট্রেনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই ট্রেন চালাতে পুরোপুরি ফিট একটি ইঞ্জিন পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

যান্ত্রিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটর বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে চাকা ঘোরায় এবং ট্রেনকে সামনে এগিয়ে নেয়। এটি ট্রেন চলাচলের মূল শক্তির উৎস।

বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন পাড়ায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও আলোর সরঞ্জাম এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের তত্ত্বাবধানে এবং রুমা জোনের ব্যবস্থাপনায় রোয়াংছড়ি উপজেলার রনি পাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। রুমা জোনের মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ক্যাম্পে পাড়ার ৫৩টি পরিবারের মোট ৫৫ জন বাসিন্দাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ জন শিশু, ২১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পাড়ার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের আওতায় সুপেয় পানি উত্তোলনের জন্য সাবমারসিবল পাম্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক তার, দুর্গম এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করতে সোলার লাইট এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার সরবরাহ করা হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হর্সপাওয়ারের সাবমারসিবল পাম্প, ৫ কেভি ও ৭ দশমিক ৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন অকটেনচালিত জেনারেটর, একটি সোলার লাইট সেট, ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ২০ গজ সোলার তার এবং ৫০টি করে চেয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও আলোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য বান্দরবানে যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘বান্দরবান যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে কোর্স অফিসার ইনচার্জ (ওআইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম শাওন, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ১৪৩ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি ইএমই।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

প্রশিক্ষণে যানবাহনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যপদ্ধতি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণ যানবাহনের অকাল বিকল হওয়া রোধ, মেরামত ব্যয় কমানো এবং যানবাহন সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারবেন।

বিশেষ করে পার্বত্য বান্দরবানে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

বান্দরবান রিজিয়নের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান সদর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবকদের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।