মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে সম্মানজনক সংবর্ধনা দেবে দিল্লি: ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলানিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে সম্মানজনক সংবর্ধনা দেবে দিল্লি: ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঢাকায় সাক্ষাতের পর আমি সরাসরি দিল্লি গিয়েছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে চমৎকার বৈঠক হয়েছে।

ভারত নিশ্চিত করছে যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করবেন, তাকে অত্যন্ত সম্মানজনক সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং এই সম্পর্কের চূড়ান্ত সুফল দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পারস্পরিক শর্তহীন বিশ্বাস ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, আমরা এমন একটি যুগে বাস করছি যেখানে প্রযুক্তির কারণে মানুষ বিশ্বব্যাপী যুক্ত হলেও ব্যক্তিগত দূরত্ব বাড়ছে।

এই বাস্তবতায় প্রতিবেশীর গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে আমি এখানে এসেছি।

উভয় দেশের ব্যবসা ও অংশীদারত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বপ্ন অভিন্ন। দুটি দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো দেশই একা সব কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে না; এতে বেসরকারি খাতের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের চলমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ, যার চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম। এই তরুণদের অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। একদিকে যেমন রয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অন্যদিকে ‘বিকশিত ভারত’—দুটি দর্শনের লক্ষ্যই এক। অতীতের মতপার্থক্যগুলো সমাধান করে আমাদের একযোগে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক উদ্বেগের বিষয়ে তিনি জানান, বিগত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের সম্মানিত মন্ত্রীদের সঙ্গে ভারতের প্রতিনিধিরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রাণবন্ত যেকোনো গণতন্ত্রে মতপার্থক্য বা উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। তবে সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই অংশীদারত্বে মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বক্তৃতার শেষভাগে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্‌ক্তি ও বিখ্যাত সুরের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘তোমার সুর, মোদের সুর, সৃষ্টি করুক ঐকতান’—এই মধুর মেলবন্ধন ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি সোনালী অধ্যায় রচনা করবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ভৌগোলিকভাবে প্রতিবেশী, সামাজিকভাবে যুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের পরিপূরক। তবে আমরা আমাদের দূরবর্তী অংশীদারদের সঙ্গে যতটা বাণিজ্য করি, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে তার চেয়ে কম করি। তাই সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা জরুরি।

ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা, টেস্টিং ও স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কিত জটিলতা, প্রক্রিয়াগত বিলম্ব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে সিআইআই প্রতিনিধিদলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন, যেন উভয় দেশের ব্যবসায় একটি সহজ ও টেকসই পরিবেশ তৈরি হয়।

তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, সিরামিক, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো বাংলাদেশি প্রতিযোগিতামূলক পণ্যগুলো আরও বেশি পরিমাণে আমদানির জন্য ভারতীয় কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে সার্ক এবং বিমসটেকের মতো কাঠামোগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিআইআই ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জিও বক্তব্য রাখেন। এতে দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন পাড়ায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও আলোর সরঞ্জাম এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের তত্ত্বাবধানে এবং রুমা জোনের ব্যবস্থাপনায় রোয়াংছড়ি উপজেলার রনি পাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। রুমা জোনের মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ক্যাম্পে পাড়ার ৫৩টি পরিবারের মোট ৫৫ জন বাসিন্দাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ জন শিশু, ২১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পাড়ার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের আওতায় সুপেয় পানি উত্তোলনের জন্য সাবমারসিবল পাম্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক তার, দুর্গম এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করতে সোলার লাইট এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার সরবরাহ করা হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হর্সপাওয়ারের সাবমারসিবল পাম্প, ৫ কেভি ও ৭ দশমিক ৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন অকটেনচালিত জেনারেটর, একটি সোলার লাইট সেট, ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ২০ গজ সোলার তার এবং ৫০টি করে চেয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও আলোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য বান্দরবানে যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘বান্দরবান যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে কোর্স অফিসার ইনচার্জ (ওআইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম শাওন, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ১৪৩ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি ইএমই।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

প্রশিক্ষণে যানবাহনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যপদ্ধতি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণ যানবাহনের অকাল বিকল হওয়া রোধ, মেরামত ব্যয় কমানো এবং যানবাহন সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারবেন।

বিশেষ করে পার্বত্য বান্দরবানে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

বান্দরবান রিজিয়নের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান সদর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবকদের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।