মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সংসদে শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী

চামড়া খাতের সংকট কাটাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চামড়া খাতের সংকট কাটাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে আরও একটি সিইটিপি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ট্যানারিগুলোতে পৃথক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরীর ৩০০ বিধিতে দেওয়া দৃষ্টি আকর্ষণ নোটিশের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।
দৃষ্টি আকর্ষণ নোটিশে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, রপ্তানি সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর সিইটিপি-সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় করা এ খাত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে। কমপ্লায়েন্স সংকট ও সিইটিপির সীমাবদ্ধতার কারণে এক লাখের বেশি শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সনদ না থাকায় বড় বড় বৈশ্বিক ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন।
তিনি কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মনিটরিং কমিটি গঠন, রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা এবং কাঁচা চামড়া পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর সৃষ্ট কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত সমস্যাই বর্তমানে চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সক্ষমতা বাড়িয়ে দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধনের উপযোগী করা হবে। পাশাপাশি আরও একটি সিইটিপি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত এলডব্লিউজি (LWG) সনদ অর্জনের জন্য পরিবেশগত বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু অনেক ট্যানারিতে পৃথক ইটিপি না থাকায় তারা সেই মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার কমেছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কাঁচা চামড়ার দাম ও চাহিদার ওপর।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আকারের সব ট্যানারিতে পৃথক ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক মান অর্জন করে এলডব্লিউজি সনদ পেতে পারেন।
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিতরণ করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, লিফলেট বিতরণ এবং গণসচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়েছে। চলতি বছর ঈদুল আজহায় প্রায় এক কোটি এক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ চামড়া সাভারের ট্যানারিগুলোতে পৌঁছেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, আর্থিকভাবে টিকে থাকতে অক্ষম ট্যানারিগুলো চিহ্নিত করে তাদের জন্য ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আবারও আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স অর্জন করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এ খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন পাড়ায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও আলোর সরঞ্জাম এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের তত্ত্বাবধানে এবং রুমা জোনের ব্যবস্থাপনায় রোয়াংছড়ি উপজেলার রনি পাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। রুমা জোনের মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ক্যাম্পে পাড়ার ৫৩টি পরিবারের মোট ৫৫ জন বাসিন্দাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ জন শিশু, ২১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পাড়ার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের আওতায় সুপেয় পানি উত্তোলনের জন্য সাবমারসিবল পাম্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক তার, দুর্গম এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করতে সোলার লাইট এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার সরবরাহ করা হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হর্সপাওয়ারের সাবমারসিবল পাম্প, ৫ কেভি ও ৭ দশমিক ৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন অকটেনচালিত জেনারেটর, একটি সোলার লাইট সেট, ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ২০ গজ সোলার তার এবং ৫০টি করে চেয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও আলোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য বান্দরবানে যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘বান্দরবান যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে কোর্স অফিসার ইনচার্জ (ওআইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম শাওন, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ১৪৩ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি ইএমই।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

প্রশিক্ষণে যানবাহনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যপদ্ধতি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণ যানবাহনের অকাল বিকল হওয়া রোধ, মেরামত ব্যয় কমানো এবং যানবাহন সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারবেন।

বিশেষ করে পার্বত্য বান্দরবানে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

বান্দরবান রিজিয়নের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান সদর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবকদের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।