বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন

দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা পোস্ট প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন করা হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত।

তবে প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কি না কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কি না এই বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে।

বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি এখানে আমি খুবই প্রাসঙ্গিক মনে করছি। তিনি বলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’। বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলছেন, বই শুধুমাত্র বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গী নয় বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে যেটি মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগেরও ঝুঁকি কমায়।

তবে বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তি মানুষের বই পড়ার অভ্যাসে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই বিমুখ করে তুলছে। ইন্টারনেটেও অবশ্য বই পড়া যায়…তবে গবেষকরা বলছেন, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা বই পড়ার মধ্যে যেভাবে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করা যায়, ইন্টারনেটে সেটা সম্ভব নয়। একইভাবে দিনের পর দিন কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জন সম্ভব হলেও শরীর এবং মনোজগতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবও কম নয়।

যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে জন জীবনে ইন্টারনেট অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে।

অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার মেলা নয় বরং মেলা হয়ে উঠুক শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার, বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১০২টি দেশের নাগরিকদের পাঠাভ্যাস নিয়ে একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ার শীর্ষে রয়েছেন। তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তান। বইপ্রেমীদের এই তালিকায় ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশের একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটির মতো বই পড়েন। আর বই পড়ার পেছনে বছরে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা সময়।

তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধুমাত্র নিছক একটি উৎসবই হবে না বরং এই মেলা আমাদের আরও বইপ্রেমী করে তুলবে, নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে, আজকের এই বই মেলায় দাঁড়িয়ে এটিই আমার প্রত্যাশা।

মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আমরা সগৌরবে প্রতি বছর অমর একুশে পালন করি। দিবসটি এখন আর শুধু বাংলাদেশের নয়। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। ৫২ সালের ভাষা শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আজকের এই বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘অমর একুশে বইমেলা’। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে অমর একুশে বইমেলা, অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি আপনারা বিবেচনা করতে পারেন।

অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা-জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, আমি মনে করি বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরো একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ জন্য আমাদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এইসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সামনে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এভাবেই বইমেলা হয়ে উঠুক আমাদের সবার মিলনমেলা, প্রাণের মেলা।

বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলায়ও আয়োজিত হতে পারে। এ ব্যাপারে বই প্রকাশকগণও উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আপনাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি আমাদের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদি গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরপ্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।

৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামী ৬ নভেম্বর বান্দরবান আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এই সফরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস, শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি সফরসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরদিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে চিম্বুকের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

একই দিন দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউসে ফিরে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশেও অংশ নেবেন তিনি।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী। সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের অনুকূলে মৃত্যুঘটিত আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে বান্দরবান ত্যাগ করবেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৯ নভেম্বর সোমবার ভোরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ হবে।

সরকারি সফরসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর এই সফরকে ঘিরে বান্দরবানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

উবাসিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১১টি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং দুজন সহকারী শিক্ষক। অথচ প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ মোট আটটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদেও জনবল নেই। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত
বিদ্যালয়ে ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক পাঠ বুঝতে পারছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভালো ফলাফল অর্জন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সব বিষয়ে পাঠ শেষ করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছি

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত বিষয়গুলোতে ক্লাস হয় না। ফলে নিজেরা পড়াশোনা করলেও কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হয়। পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি, কিন্তু সব বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় ক্লাস হয় না। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তা বুঝিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষক পাই না। এতে আমাদের পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিষয় নিজেরাই পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়ে শিক্ষকের সহযোগিতা ছাড়া ভালোভাবে শেখা কঠিন। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নিতে পারছি না।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মেসিংউ মার্মা জানান , “আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন শিক্ষক না থাকায় কোন বিষয়ে কতটুকু পড়া শেষ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।

২ নং সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মংমিন মার্মা তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দূরবর্তী পাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জনের মতো সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত বর্তমানে শিক্ষক রয়েছে তিনজন সেখানেও আবার একজন শিক্ষক রয়েছে বিএড এ প্রশিক্ষণরত। তাহলে দুইজন শিক্ষক দিয়ে কেমনে চলবে মানতে পারছি না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি অফিসের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল কান্তি দেব তিনি জানান বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট হওয়াতে পালাক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে মাঝেমধ্যে হতাশ হয় এই বাচ্চাগুলোকে দেখে।বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষক ইংরেজি শিক্ষক সাথে শূন্য পদে শিক্ষকগুলো খুবই অভাব তবে শুনেছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি নিয়োগ হয় তাহলে যেসব বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরণ হওয়ার আশাবাদী রুমা উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় এগারোটি পথ শূন্য রয়েছে এ বিষয় নিয়ে খুবই হতাশে রয়েছি।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন করবে। এতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।