সাতকানিয়া–লোহাগাড়ায় উদ্বেগ
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের দায়িত্বে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগ নেতা!
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের দুই উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ শহিদ—এমন তথ্য সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ শহিদ লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির আহমেদের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বড় ভাই সেলিম উদ্দীন উপজেলা যুবলীগের নেতা এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
এদিকে সাবেক এমপি নদভীর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলে শহিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একাধিক ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ছবিগুলোতে তাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাবেক এমপির সঙ্গে দেখা গেছে। এসব তথ্য সামনে আসার পর ভোটকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল কাজে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশের ২১ হাজার ৯৪৬টি অতিগুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায়ও সিসিটিভি স্থাপনের কাজ চলমান।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল কাজে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কেউ এ দায়িত্বে থাকলে বিতর্কের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী প্রধান সমন্বয়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন,
“এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাকে সরিয়ে অন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হোক।”
একই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই উদ্বেগজনক। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করব।”
অভিযুক্ত মোহাম্মদ শহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারাই আমাকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর দায়িত্ব দিয়েছেন।”
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ প্রকল্পের সার্বিক তদারকি করছেন উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা। কাজটি কাকে দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বিস্তারিত জানাতে পারবেন।’
জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (শহীদ) কখনোই তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি এবং এ বিষয়ে আমারও কোনো তথ্য জানা নেই।’ বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি ছাত্রলীগ করতেন এটা আমার জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম শুনেছি। পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলায় তিনি কাজ করেছেন বলে আমিও তাকেই দায়িত্ব দিয়েছি। বিষয়টি আগে জানলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তবে আমাদের শক্তিশালী নিরাপত্তা টিম রয়েছে, কোনো সমস্যা হবে না।’








