বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বৈঠক

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের চিফ অবজার্ভার ইভারস আইজাবস, পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট মার্সেল নাগি এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট ভিওনিয়া মাদালিনা।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি সরকার, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এবং নারী বিষয়ক সেল সম্পাদক নোভা।
বৈঠকে বিশেষভাবে আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া, জুলাই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও এর প্রভাব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন—বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে কেমন, প্রশাসন কী ভূমিকা পালন করছে এবং তারা নিরপেক্ষ রয়েছে কি না।
তিনি জানান, আলোচনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়।
হাসিব আল ইসলাম বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য এই মুহূর্তে নির্বাচন প্রয়োজন। তবে সার্বিকভাবে দেশে একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকট বিদ্যমান।”
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে টার্গেটেড কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা এবং কারওয়ান বাজারে বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তাদের গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রশাসন মূলত বিএনপি ও জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, ফলে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনী সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বড় দলগুলো তুলনামূলকভাবে প্রশাসনিক সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সম্পর্কেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসিব বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। বিএনপির কয়েকজন নেতার ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ স্বতন্ত্র ও ছোট দলের প্রার্থীদের সামান্য কাগজপত্রের ঘাটতির কারণেই মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে।”
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে হাসিব আল ইসলাম বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। তারা টার্গেটেড কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িত এবং ২০১৩ সালের গণহত্যা ও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।”
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় এখনো জনগণ বিচার পায়নি এবং দলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। “বাংলাদেশের মানুষ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ চায় না”—এই বার্তাই ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রগতি নিয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানান হাসিব। তিনি বলেন, “যত দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এগোবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রয়োজন নেই—এটাই আমরা স্পষ্ট করেছি।”
বৈঠক প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কী ধরনের সংকট ও সমস্যা দেখা দিতে পারে, সে বিষয়েও ইইউ প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন।
তিনি জানান, আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে মব ভায়োলেন্স, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া এবং নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
রিফাত রশীদ বলেন, “ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং তাদের জোট নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কী—তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।”
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন তো দূরের কথা, বাংলাদেশের রাজনীতিতেই আমরা আওয়ামী লীগকে দেখতে চাই না। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে নির্বাচনে সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি। আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন; তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”
জাতীয় পার্টি সম্পর্কে রিফাত রশীদ বলেন, দলটি আওয়ামী লীগের অর্থায়নে পরিচালিত এবং তাদের রাজনীতি বহন করছে। “আমরা জাতীয় পার্টিকেও নির্বাচনে না রাখার পক্ষে। তবে যদি রাখা হয়, তাহলে অবশ্যই বিচার ও রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে তাদের নির্বাচনে আসতে হবে,”—বলেন তিনি।

বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ এম
বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০২৬’। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত লিড ব্যাংকিং পদ্ধতির আওতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার, সোনালী ব্যাংক পিএলসির টেরিটোরিয়াল জেনারেল ম্যানেজার রানা অমিতাদ দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বান্দরবানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ইউসিবি পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান মেহেদী হাসান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবি পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বান্দরবান শাখার শাখা প্রধান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউছুফ আলী।

বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল ও সচেতন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। শুধু অর্থ সঞ্চয় নয়, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে ধারণা, ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট এবং ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের মূল বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে তাদের আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়মুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়মুখী করে গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এ ধরনের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্সের অন্যতম উদ্দেশ্য। বান্দরবানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।

৩ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৩ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামী ৬ নভেম্বর বান্দরবান আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এই সফরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস, শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি সফরসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরদিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে চিম্বুকের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

একই দিন দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউসে ফিরে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশেও অংশ নেবেন তিনি।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী। সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের অনুকূলে মৃত্যুঘটিত আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে বান্দরবান ত্যাগ করবেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৯ নভেম্বর সোমবার ভোরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ হবে।

সরকারি সফরসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর এই সফরকে ঘিরে বান্দরবানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।