থানার ভেতরে ঘুমন্ত কনস্টেবলের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার সেলফি
থানার ভেতরে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ফেসবুকে সেলফি ও পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। ঘুমন্ত এক পুলিশ কনস্টেবলের পাশে বসে তোলা সেলফি, হাতকড়া পরা ছবি এবং ভিডিও কলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ হেফাজতে আসামির মোবাইল ব্যবহার ও দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছাত্রলীগ নেতার নাম শোয়াইব উল ইসলাম ওরফে মহিম (২১)। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল বশরের ছেলে। ‘শোয়াইব উল ইসলাম ওরফে মহিম’ নামেই তাঁর ফেসবুক আইডি।
পুলিশ জানায়, (১৮ ডিসেম্বর) বুধবার রাত আনুমানিক একটার দিকে পটিয়া পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকা থেকে শোয়াইবকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে যুবলীগের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পটিয়া থানায় আনা হয়।
থানায় নেওয়ার পর প্রথমে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন শোয়াইব। সেখানে তিনি লেখেন, “আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি পটিয়া থানায়। দেখা হবে আবারও, ফিরব বীরের বেশে কোনো একদিন। জয় বাংলা।”
এরপর হাতকড়া পরা একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “এই দিন দিন নয়, দিন আরও আছে।”
পরবর্তী সময়ে থানার ভেতরে দায়িত্বরত অবস্থায় চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে সেলফি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করেন শোয়াইব। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “ঘুম ভালোবাসিরে এএএ…। জীবন যেমনই হোক, বিনোদন মিস করা যাবে না।”
এ ছাড়া থানার ভেতর থেকেই ভিডিও কলে ছাত্রলীগের আরেক নেতা তুহিনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ওই ভিডিও কলের একটি ছবি তুহিন নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন লড়াইয়ে দখলদার বাহিনীর হাতে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী মো. শোয়াইব-উল ইসলাম মহিমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামির কাছে মুঠোফোন থাকা, থানার ভেতরে ফেসবুক ব্যবহার এবং তাঁকে হাজতখানায় না রেখে কর্মকর্তার কক্ষে রাখার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক সাংবাদিকদের বলেন, শোয়াইবকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তারের পর থানায় আনা হয়। পরে অভিযানকারী দল দ্রুত আরেকটি অভিযানে বেরিয়ে গেলে ওই সময় তিনি নিজের কাছে লুকিয়ে রাখা মুঠোফোন ব্যবহার করে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। প্রাথমিক তল্লাশিকালে মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ওই সময় দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত শোয়াইবের ফেসবুক আইডিতে ওইসব পোস্ট আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। তবে এর আগেই পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।











