বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

আইআইইউসি টাওয়ারের ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ:

সাবেক এমপি নদভী দম্পতিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আন্তর্জাতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:১০ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাবেক এমপি নদভী দম্পতিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা  আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ট্রাস্ট পরিচালিত ‘আইআইইউসি টাওয়ার’ থেকে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী দম্পতিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুদকের উপসহকারী পরিচালক কমল চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।

তিনি জানান, “মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে নতুন কেউ জড়িত পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।”

প্রধান আসামি সাবেক এমপি নদভী

দুদকের মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও আইআইইউসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে।
এছাড়া তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা সুলতানাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ট্রাস্টের সদস্য ও বেশ কয়েকজন শিক্ষক–কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ, প্রফেসর ড. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, ড. ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমেদ চৌধুরী, প্রফেসর ড. ফসিউল আলম, প্রফেসর মো. আবদুর রহিম, ড. মো. শামসুজ্জামান, প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক মাহি উদ্দিন, অধ্যাপক আফজল আহমদ, ড. মোজাফফর হোছাইন নদভী, মোহাম্মদ খালেদ মাহমুদ, মোহাম্মদ বদিউল আলম ও মুহাম্মদ শফিউর রহমান।

অভিযোগ: ট্রাস্টের ১২ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আসামিরা ট্রাস্টের ১২ কোটি ৭৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৬ টাকা আত্মসাৎ করেন।
আইআইইউসি ট্রাস্ট একটি অলাভজনক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যার আয় ব্যয় হওয়ার কথা শিক্ষাবৃত্তি, গবেষণা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে। কিন্তু আসামিরা নিজেদের স্বার্থে এ অর্থ ব্যবহার করেন, যা ট্রাস্ট আইন ও বিধির পরিপন্থী।

আইআইইউসি টাওয়ারের পেছনের গল্প

২০০৫ সালে ট্রাস্টটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি প্লট কিনে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় ১৫ তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘আইআইইউসি টাওয়ার’ নির্মাণ করে। ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয় এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

তদন্তে জানা যায়, ট্রাস্টের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও বছরের পর বছর ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্মানী, বোনাস, টিএ/ডিএ ও অন্যান্য ভাতা নিয়েছেন।

নদভী ও পরিবারের আর্থিক সুবিধা

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে দুদক জানায়, টাওয়ার থেকে নদভী মাসে সম্মানী নিতেন ১০ লাখ ৯ হাজার ৩৩৩ টাকা, জ্বালানি বাবদ ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল বিল ৭ হাজার টাকা এবং দুই ঈদে প্রতিবার উৎসব ভাতা হিসেবে পেতেন ৬ লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা।

তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা সুলতানা পেতেন মাসে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা সম্মানী, মোবাইল বিল ৩ হাজার টাকা এবং প্রতি ঈদে ২ লাখ ২২ হাজার টাকার উৎসব ভাতা।

ভাইস চেয়ারম্যান কাজী দ্বীন মোহাম্মদ পেতেন ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী এবং উৎসব ভাতা হিসেবে ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

দুবাইয়ে চিকিৎসা বাবদ ৩০ লাখ টাকা পাঠানো

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা দুবাইয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে টাওয়ার থেকে ৩০ লাখ টাকা পাঠানো হয় মেডিকেল খরচ হিসেবে, যদিও ট্রাস্টের কোনো সদস্যের এমন ভাতা পাওয়ার নিয়ম নেই।

এই টাকা পরবর্তীতে জাল রেজুলেশনের মাধ্যমে ‘সমন্বয়’ দেখানো হয়, যেখানে নদভী ও তৎকালীন রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।

টাওয়ারের আয়-ব্যয় লুকিয়ে রাখা হতো

২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিবরণীতে টাওয়ার থেকে কোনো আয় দেখানো হয়নি।
দুদক বলছে, চ্যান্সেলরের অনুমতি ছাড়াই দুই দফায় প্রায় চার লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর ধারা ৪৪(৬)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।

টাওয়ারের আয় মূল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে আলাদা অ্যাকাউন্টে রেখে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো, যার পরিমাণ তিন বছরে অন্তত ৩২ কোটি টাকা।

দুদকের অবস্থান

দুদক জানায়, “পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রেক্ষাপট

আইআইইউসি টাওয়ার থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা আয় হতো। নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে।
কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, এই আয় ব্যক্তিগত খাতে সরিয়ে নিয়ে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ট্রাস্টি সদস্যরা।

ক্ষতিকর লেজার লাইট নিক্ষেপ করে চালকের চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিতে চায় ট্রাফিক পুলিশ

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ক্ষতিকর লেজার লাইট নিক্ষেপ করে চালকের চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিতে চায় ট্রাফিক পুলিশ

ঠিক সন্ধ্যো নামার পর থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র খ্যাত সাতকানিয়ার কেরানীহাট মোড়ে সবুজ রঙয়ের লেজার লাইটের রশ্মি দেখা যায়। কোত্থেকে সেই রশ্মি আসছে, কৌতূহল নিয়ে তাকালেই দেখা যাবে, যান নিয়ন্ত্রণে ‘ক্ষতিকর’ এই লাইট ব্যবহার করছে ট্রাফিক পুলিশ।

এ মোড় ব্যবহার করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার চালক এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ট্রাফিক পুলিশ ক্ষতিকর এই লেজার লাইট ব্যবহার করছে। এই লাইট চোখে এসে পড়লে তৎক্ষণাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, যা স্বাভাবিক হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। অনেক সময় চোখ জ্বালাপোড়াও করে। এ ছাড়া, চোখের ক্ষতির পাশাপাশি এই লাইটের ব্যবহারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

লাইট অ্যামপ্লিফিকেশন বাই স্টিমুলেটেড এমিশন অব রেডিয়েশন, যার সংক্ষিপ্ত রূপ লেজার। এটি এক ধরনের আলোক রশ্মি। বিশেষ উদ্দীপনায় বিকিরণ ঘটিয়ে সাধারণ আলোর ক্ষমতা ও শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তৈরি করা হয় লেজার। চিকিৎসাক্ষেত্রে কসমেটিক সার্জারি, ত্বকের চিকিৎসা, ক্ষতস্থান নিরাময়, দাঁত কিংবা চোখের চিকিৎসায় লেজার রশ্মির ব্যবহার হয়। কিন্তুরাতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতে হাতে দেখা যায় লেজার লাইট। এই লাইট ছুড়ে তারা যানবাহনকে সংকেত দেন।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লেজার লাইটের রশ্মি চোখে এসে পড়লে রেটিনার ক্ষতিসহ তা অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি করে। আর পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের লাইটের ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়।

নিয়মিত কেরানীহাট মোড় হয়ে বাসায় যাতায়াত করেন মোটরসাইকেলচালক তারেকুলি ইসলাম (২৭)। তিনি বলেন, ‘এই লেজার লাইট চোখে পড়লে সামনে আর তাকাতে পারি না। একদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি, হঠাৎই লাইটটা আমার চোখে এসে পড়ল, আর আমার সামনে ছিল একটা সাইকেল। দুর্ঘটনা এড়াতে আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি।’

‘কী ধরনের লাইট ব্যবহার করা যাবে না, ট্রাফিক পুলিশ তো আমাদেরকে সেই বিষয়ে সচেতন করবে। অথচ উল্টো তারাই এ ধরনের লাইট ব্যবহার করছে। এটা তো আমাদের জন্য বিপজ্জনক। এই ক্ষতিকর লাইট যারা ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত’, বলেন তিনি।

নুরুল ইসলাম (৫৬) নামের একজন বলেন, ‘পথে চলাচলের সময় প্রায়ই এই লাইট চোখে এসে পড়ে, যা ক্ষতিকর তো বটেই, অত্যন্ত বিরক্তিকরও। কেরানীহাটে নিয়মিতই ট্রাফিক পুলিশ এই লাইট ব্যবহার করে। এই লাইটের আলো চোখে এসে পড়লে চোখ জ্বলে এবং ঝাপসা দেখি।’

একই অভিজ্ঞতা বাসচালক আব্দুস সবুরেরও (৪৫)। ‘প্রায়ই এই লাইট চোখে এসে পড়ে। তখন তো ঘোলা দেখি’, বলেন তিনি।

গাড়িচালক মো. ইলিয়াস (৪৮) জানান, এই লাইট চোখে এসে পড়লে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, যা ঠিক হতে কয়েক মিনিট সময় লেগে যায়। ‘আবার অনেক সময় এই লাইটের আলো লুকিং গ্লাসেও পড়ে। সেখান থেকেও চোখে আসে। আবার লুকিং গ্লাসে লাইট পড়লে তখন আশপাশের গাড়ি দেখা যায় না’, বলেন ইলিয়াস।

ট্রাফিক পুলিশ ক্ষতিকর এই লাইট কেন ব্যবহার করছে প্রশ্ন তুলে গাড়ি চালক নেজাম উদ্দিন (৪০) বলেন, ‘প্রায়ই হঠাৎ করে এই লাইট চোখে এসে পড়ে। তখন চোখে অন্ধকার দেখি। চোখের ক্ষতি করে কেন লেজার লাইট ব্যবহার করতে হবে?’

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেজার লাইটের রশ্মি যদি চোখের রেটিনায় পৌঁছায়, তাহলে আমরা যে অংশ দিয়ে দেখি ম্যাকুলা, সেটা বার্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটা হলে তো সে আর চোখে দেখবে না। আর লেন্সে এই রশ্মি পড়লে ছানি হতে পারে। আবার চোখে পড়লে প্রদাহও হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো ছানি পড়া, আর রেটিনাতে লেজার পড়ার কারণে ম্যাকুলা বার্ন হয়ে গেলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। এতে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। আবার এই লেজার লাইট চোখে পড়ার পর তৎক্ষণাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

লেজার লাইট ব্যবহার করা কোনোভাবেই উচিত না উল্লেখ করে এই চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, চিকিৎসকরা অপারেশনে জন্য লেজার লাইট ব্যবহার করে। যেমন: ডায়াবেটিসের জন্য চোখে রক্তক্ষরণ হয়, তখন লেজার লাইট দিয়ে রেটিনা বার্ন করে দেওয়া হয়, যাতে আর রক্তক্ষরণ না হয় বা নতুন রক্তনালী তৈরি না হয়। আবার ছানির অপারেশনসহ বিভিন্ন রকমের সার্জারির জন্য লেজার লাইট ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বাইরে এটা ব্যবহার করা তো নিষিদ্ধ। এটা ঠিক না। বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের লেজার আছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ তো না জেনেই এটা ব্যবহার করছে। সেটা চোখের রেটিনা পর্যন্ত পৌঁছালে তো বেশ ক্ষতিকর হবে।

মানবাধিকারকর্মী শহীদুল ইসলাম বাবর বলেন, ‘এই ধরনের লাইট চোখের ক্ষতি করে এবং সড়ক নিরাপত্তা জন্য ভয়ঙ্কর ঝুঁকি তৈরি করে। আমি মনে করি, এই লাইট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কোনো ধরনের উপকার হয় না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিকে বিষয়টি বিবেচনা করে এই লাইট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মো. মাহবুবের কাছে এই লাইট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এটা ব্যবহার করা ক্ষতিকর’ স্বীকার করে তিনি বলেন, অনেক সময় দূরে থেকে তাদেরকে যান নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং জোরে কথা বললেও শোনা যায় না যানবাহনের শব্দের কারণে। সেই কারণেই তারা এই লাইট ব্যবহার করছেন।

ট্রাফিক বিভাগ থেকে এই লাইট দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়নি, আমরা নিজেরা কিনে তা ব্যবহার করছি।’

এদিকে, অনিয়ন্ত্রিত লেজার লাইট ব্যবহার কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে এই অনিয়ন্ত্রিত লেজার লাইট ব্যবহার তাৎক্ষণিকভাবে কেন নিষিদ্ধ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজির হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ এম
বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০২৬’। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত লিড ব্যাংকিং পদ্ধতির আওতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার, সোনালী ব্যাংক পিএলসির টেরিটোরিয়াল জেনারেল ম্যানেজার রানা অমিতাদ দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বান্দরবানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ইউসিবি পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান মেহেদী হাসান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবি পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বান্দরবান শাখার শাখা প্রধান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউছুফ আলী।

বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল ও সচেতন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। শুধু অর্থ সঞ্চয় নয়, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে ধারণা, ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট এবং ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের মূল বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে তাদের আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়মুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়মুখী করে গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এ ধরনের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্সের অন্যতম উদ্দেশ্য। বান্দরবানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।