বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ইসির নীতিমালা স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: কাদের গনি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইসির নীতিমালা স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: কাদের গনি চৌধুরী

‘ভোটের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রণীত নীতিমালা স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করি না।’

শনিবার (১১ অক্টোবর) ‘নির্বাচন কমিশন প্রণীত সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা-২০২৫’ শীর্ষক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে সাংবাদিকদের ভোটকক্ষে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।

যদি অবহিত করে প্রবেশ করতে হয় তাহলে আমাকে কেন নির্বাচনী কার্ড দিচ্ছে ইসি? আবার প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজেই যদি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে কি তিনি অনুমতি দেবেন? আবার শত শত মিডিয়ার অনুমতির জন্য কথা বলতে গেলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তার কাজ কীভাবে করবেন? কাজেই এই নীতিমালা কোনো অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত নয়। আমি মনে করি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই আদেশটি একেবারে সাংঘর্ষিক।
এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
ভোটকক্ষে সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট সময়ের উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট নীতিমালার বিষয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, একজন সাংবাদিক ১০ মিনিটের বেশি কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না। আমার প্রশ্ন হলো ১০ মিনিট কেন? ওখানে যদি কারচুপি হয়, সাংবাদিকরা গেলেন, ১০ মিনিট কারচুপিটা বন্ধ থাকল। ১০ মিনিট কারচুপিটা হলো না। সাংবাদিকরা চলে আসার পর আবার যে কারচুপি হবে না, এর গ্যারেন্টি কী? তাহলে সঠিক তথ্য জাতি কীভাবে জানবে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে জানবে?
বিএফইউজে মহাসচিব আরও বলেন, যে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে, এতে মূর্তির মতো সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। ভোটকক্ষের বাইরের দিকে কিছু দেখবেন, আর ভেতরে কী হচ্ছে, এটার জন্য মূর্তির মতো শুধু আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন!

তিনি বলেন, আমরা মূর্তির মধ্য দাঁড়িয়ে থাকার জন্য সাংবাদিকতা করতে আসিনি। আশা করছি নির্বাচন কমিশন একটা সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার, সত্য তুলে ধরার জন্য সর্বদা সহযোগিতা করবেন।

ইসির প্রতি কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক, তারা সরাসরি ভোটকক্ষে কারোরই কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, কারো অনুমতি নিতে হবে না—এই বিধান করতে হবে। এক্ষেত্রে গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না। তবে গোপন কক্ষে কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তির ভোটদানের ফটো তোলা, ভিডিও ধারণ করার জন্য একসঙ্গে একাধিক সাংবাদিক প্রবেশের বিধান থাকতে হবে। তবে ভোট গণনার ফটো ও ভিডিও নিতে পারলেও সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। কেবল অনিয়ম হলে সম্প্রচার করতে পারবেন, এমন বিধান করতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদেরই কেবল সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সাংবাদিক কার্ড দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরেন।

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহযোগিতায় সভাটি আয়োজন করে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক রাজার সভাপতিত্বে ও বিজেসি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসচিব ও আরটিভি’র হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, আরএফইডি সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন (জেবেল), সাধারণ সম্পাদক গোলামী রাব্বানীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা, অথচ গণমাধ্যমের সঙ্গে বসা হচ্ছে না—এটা হতে পারে না। সাংবাদিকরা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক। তাহলে তাদের সঙ্গে কেন বসা হচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।

সূত্র বাংলানিউজ

নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ২ দোকান, ২ বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গরুর খামার

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম
নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ২ দোকান, ২ বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গরুর খামার

জাহাঙ্গীর আলম কাজল,নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মালামালসহ দুটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি বসতবাড়িও। তবে স্থানীয় লোকজনের প্রচেষ্টায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পাশের একটি গরুর খামার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মচারী। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হঠাৎ আগুনের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে আগুন দেখতে পেয়ে প্রথমে পাশের দোকানদার গোলাম কিবরিয়াকে ফোন করেন। প্রাথমিকভাবে গোলাম কিবরিয়ার দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন পাশের হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এরই মধ্যে আগুনে গোলাম কিবরিয়ার দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডে গোলাম কিবরিয়ার মুদি দোকান ও হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ওই ভবনের দুই ভাড়াটিয়া সাহাবুদ্দিন ও চুই চা মং মার্মার বসতঘরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলসংলগ্ন স্থানীয় খামারি মোহাম্মদ ইসলামের বড় একটি গরুর খামারও আগুনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খামারটি রক্ষা পায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার গোলাম কিবরিয়া জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাঁর দোকানের তালা খুলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এতে তাঁর আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অপর দোকানদার হামিদ খলিফা জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এমপি জসীম উদ্দিনের বিশেষ সহকারী হলেন আবদুস সবুর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
এমপি জসীম উদ্দিনের বিশেষ সহকারী হলেন আবদুস সবুর

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সবুর।

তাঁর নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার বন্যা বইছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকে জারি করা নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, আবদুস সবুর চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকিসহ অর্পিত অন্যান্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় আবদুস সবুরকে একাধিক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এই নেতার নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবদুস সবুর বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে অনেক নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়িনি।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদ আমার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে এই দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাঁর আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের উন্নয়ন এবং সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।’

তাঁর নিয়োগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তাঁদের মতে, আবদুস সবুর দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্যের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরার সুযোগ আরও সহজ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এদিকে, নিয়োগের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবদুস সবুরকে অভিনন্দন জানিয়ে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অনেকে তাঁর ছবি ও নিয়োগপত্র প্রকাশ করে নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করছেন।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভিন্ন পোস্টে তাঁকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী উল্লেখ করে এ নিয়োগকে রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আবদুস সবুরের নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে ঘিরে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এখন নতুন দায়িত্বে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

এইচএসসিতে ৫ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রশক্তি নেতা এবার ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরে ব্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
এইচএসসিতে ৫ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রশক্তি নেতা এবার ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরে ব্যস্ত

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের কাছে বিভিন্ন যানবাহন ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ কোনো যানবাহন আটক করলে তিনি পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের তদবিরের কারণে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে কেরানীহাট পুলিশ বক্স থেকে সাঈদ হোসেন মানিককে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। সূত্রের দাবি, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। তাদের দাবি, সড়কে অভিযান চালিয়ে কোনো মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহন আটক করা হলে বিভিন্ন সময় ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন। এমনকি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হলে তা সুশাসন ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন সাঈদ হোসেন মানিক। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ বক্সের সামনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাঈদ হোসেন মানিক চুপ থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মো. মাহবুব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।