দুদকের মামলায় সাবেক এমপি ফজলে করিমকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন
সন্দেহজনক লেনদেন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের আইনজীবী সিনিয়র চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহমানের আদালতে এ আবেদন করেন। মামলায় ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৭২ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ জুলাই দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মুহম্মদ কবির হোসাইন জানান, মামলার অভিযোগে উল্লেখ আছে—ফজলে করিমের ১২টি ব্যাংক হিসাবে ১০৮ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ কোটি টাকার বেশি জমা এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়, যা দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর মোট সম্পদ ২৪ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি। আয়কর নথি যাচাই করে দুদক বৈধ আয় হিসেবে ১৮ কোটি টাকার কিছু বেশি চিহ্নিত করেছে। বৈধ আয়ের বাইরে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত থেকে ফজলে করিমকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
আগামী ৫ অক্টোবর এ বিষয়ে আদালতে শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে।











